নীলফামারী প্রতিনিধি
অক্টোবরের শুরুতেই নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় আবহাওয়ার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন ধরে ভোরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা কুয়াশা ও শিশির দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর বাতাসে অনুভূত হচ্ছে শীতলতা। দিনের বেলায় শরতের রোদ ও উষ্ণতা থাকলেও ভোর ও রাতে হালকা ঠান্ডায় আগাম শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে।
ভোরে ডিমলার মাঠ-ঘাট, ফসলের জমি, গ্রামীণ সড়ক ও খোলা প্রান্তরে দেখা যাচ্ছে হালকা কুয়াশার আবরণ। সূর্য ওঠার পর ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে। দিনের বেলায় রোদের উষ্ণতা থাকলেও সন্ধ্যার পর আবার বাড়ছে শীতল অনুভূতি। বিশেষ করে খোলা মাঠ ও চরাঞ্চলে ভোরের বাতাসে ঠান্ডার অনুভূতি তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ডিমলার বিভিন্ন এলাকায় ভোরের কুয়াশায় ফসলের মাঠ ও ঘাসের ওপর জমছে শিশির। কুয়াশার কারণে দূরের গাছপালা ও সড়ক কিছুটা ঝাপসা হয়ে আসে। সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে চারপাশ। দিনের উষ্ণতা আর ভোর-রাতের শীতলতার পার্থক্যেই ঋতু পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছেন স্থানীয়রা।
ভোরের কুয়াশায় নীলফামারীতে শীতের আগমনী বার্তা
সাধারণ জ্বর ভেবে ভুল চিকিৎসা, ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল তরুণের
ডিমলা সদরের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ভোরে বাইরে বের হলে হালকা কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় রোদ থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে যায়। রাতে আগের তুলনায় শীতের অনুভূতিও বেশি।’
চরাঞ্চলের বাসিন্দা খালিলুর রহমান বলেন, ‘ভোরের দিকে চর এলাকায় কুয়াশা বেশি দেখা যায়। সকালে মাঠে গেলে চারপাশে হালকা কুয়াশা থাকে। সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাতাস অনুভূত হচ্ছে। এতে শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা হাসেম আলী বলেন, ‘এখনো দিনে গরম আছে। তবে ভোর ও রাতে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনটা বেশি বোঝা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।’
উপজেলার কালিরডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হরিহর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ভোরে মাঠে গেলে কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস পাওয়া যাচ্ছে। দিনের বেলায় আবার রোদ ও গরম থাকে। এ সময়টায় আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন বেশ ভালোই লাগছে। ভোরে মাঠে কাজ করতে গেলে শীতের আমেজ টের পাওয়া যায়।’
ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সবুর মিয়া বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের সময় ভোর ও রাতে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম অনুভূত হতে পারে। এ সময় হালকা কুয়াশা ও শিশিরও দেখা দিতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা এখনো বেশি থাকায় এটিকে শীতের শুরু বলা যাবে না।’
কৃষিনির্ভর ডিমলা উপজেলায় এ সময় মাঠে চলছে বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যা। ভোরের কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের মধ্যেও কৃষকরা নিয়মিত মাঠে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সন্ধ্যার পর শীতলতা বাড়ায় গ্রামীণ জনপদে মানুষের চলাফেরায়ও কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে দিনের বেলায় শরতের রোদ আর ভোর ও রাতে কুয়াশা-শিশিরে ডিমলার প্রকৃতিতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আবহ। শীত এখনো পুরোপুরি জেঁকে বসেনি, তবে ভোরের কুয়াশা ও রাতের শীতল বাতাসে ধীরে ধীরে মিলছে শীতের আগমনী বার্তা।
//L//

