প্রযুক্তি ডেস্ক
ভিডিও ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে দর্শক ও ভিউ বাড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন থেকেও আয় করেন নির্মাতারা। তবে নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য সেই আয়ের পথ আরও কঠিন করতে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি।
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (ওয়াইপিপি)-এর আওতায় বিজ্ঞাপন থেকে আয় করার যোগ্যতার শর্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপনের আয় পেতে নতুন নির্মাতাদের আগের তুলনায় দ্বিগুণ ওয়াচ আওয়ার অথবা ‘শর্টস’ ভিউ অর্জন করতে হবে।
নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয়ের অংশ পেতে একজন নির্মাতাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এগুলো হলো-
*) শেষ ৩৬৫ দিনে কমপক্ষে ৮ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ আওয়ার,
*) শেষ ৯০ দিনে কমপক্ষে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ‘শর্টস’ ভিউ
*) কমপক্ষে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার।
বর্তমানে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয়ের অংশ পাওয়ার জন্য একজন নির্মাতার গত ১২ মাসে ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ আওয়ার অথবা শেষ ৯০ দিনে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ‘শর্টস’ ভিউ এবং অন্তত ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকার শর্ত রয়েছে।
অর্থাৎ নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ওয়াচ আওয়ার ও ‘শর্টস’ ভিউ উভয় ক্ষেত্রেই যোগ্যতার সীমা দ্বিগুণ হবে।
বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন নির্মাতারা
নতুন নিয়মের সরাসরি প্রভাব মূলত নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর পড়বে। যারা ইতোমধ্যে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়বে না।
তবে যারা আগামী বছর ইউটিউবকে আয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য নতুন শর্ত পূরণ করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কম সাবস্ক্রাইবার ও সীমিত দর্শকসংখ্যা নিয়ে কাজ করা নির্মাতাদের আরও বেশি সময় ধরে দর্শক তৈরি করতে হতে পারে।
কেন নিয়ম পরিবর্তন করছে ইউটিউব?
যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তনের বিষয়ে ইউটিউবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে নতুন নীতির ফলে বিজ্ঞাপন আয়ের অংশ পাওয়ার আগে নির্মাতাদের আরও বেশি দর্শক ও ওয়াচ আওয়ার অর্জন করতে হবে।
ফলে আয় করার যোগ্যতা অর্জনের আগেই নির্মাতাদের বড় পরিসরে দর্শক তৈরি এবং নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হতে পারে।
নতুন এই শর্তের কারণে অন্যান্য ভিডিও ও কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মও নতুন নির্মাতাদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। ইউটিউবের পাশাপাশি মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে দর্শক তৈরির দিকে নতুন নির্মাতারা আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।

