ফরিদপুর প্রতিনিধি
বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে গোলাপি রঙের পদ্মফুল ফুটে আছে। বিলের পানিতে শাপলা-শালুক আর পদ্মফুলের ছড়াছড়ি। বিশাল এ বিল জুড়ে এখন শুধুই গোলাপি-লাল-সাদার সংমিশ্রণে ফোটা রাশি রাশি পদ্ম ফুল। ফুলগুলো যেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য বিলিয়ে দিচ্ছে। শরতের ফুল হলেও চাঁপাই বিলে বর্ষাতেই তার সৌন্দর্য ও শুভ্রতার প্রতীক নিয়ে হাজির হয় ‘পদ্ম’। প্রকৃতিতে নিজের রূপ বিলিয়ে দিচ্ছে ফুটে থাকা এ জলজ ফুলের রাণী। জেলা-উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে সৌন্দর্যপিপাসুরা বিলটিতে আসছেন। ছোট ছোট নৌকায় চড়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। পাশাপাশি তুলছেন ছবি-সেলফি, করছে ভিডিও।
চাঁপাদার বিলে গিয়েছিলাম। চাঁপাদার বিল ফরিদপুর হতে মাত্র হাতে গোনা কয়েক কিঃমিঃ দূরে। কানাইপুর থেকে দক্ষিণ দিকে চার-পাঁচ কিলোমিটার গেলেই রণকাইল উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের পেছনেই চাঁপাদার বিল।
পদ্ম ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য সোনাকান্ত বিলে
এখন অবশ্য আর কেউ চাঁপাদার বিল বলে না। এখন এই বিলের নাম হয়েছে পদ্ম বিল হয়েছে। অনেকেই এখন পদ্মবিল নামেই ডাকে। কারণ কয়েক বছর ধরে এখানে প্রচুর পদ্মফুল ফোটে। বেশ কয়েক বছর ধরে চাঁপাদার বিলের নাম পদ্ম বিল শুনে আসছি। অনেকেই সেখানে যায়।
চাঁপাদার বিল আসলেই কী খুব প্রকৃতির অপার লীলায় ভরপুর! নাকি গালগল্প। কাশিমাবাদ থেকে যোগ দিল বুলি, জিমি আর মদিনা। খুব সুন্দর একটা টিম শিশু-কিশোর এবং যুবক নিয়ে। সব শ্রেণির ভ্রমণপিপাসু মানুষ নিয়ে চললাম চাঁপাদার বিল। দারুণ উত্তেজনা কাজ করছে। যা হোক দশ পনেরো মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম কাঙ্খিত গন্তব্যে।
আমরা যখন পৌঁছালাম বেলা তখন সবে চারটে বেজেছে। তখন খুব বেশি মানুষ আসে নাই। কেমন জানি শুধো শুধো লাগছিল। যাকে বলে আল্যে আল্যে। হেঁটে হেঁটে যতদূর এগোলাম তত ভালো লাগছিল। বিস্তর এলাকাজুড়ে বিল। মাঝ দিয়ে বয়ে বইয়ে গেছে একটা ইট বিছানা রাস্তা।
রাস্তার উভয় পাশে সদ্য ধোয়া পাটকাঠি দাঁড় করিয়ে রাখা আর পাট পচানো সুঘ্রাণ সব মিলিয়ে আমাকে মোহিত করছিল। তারই মধ্যে এগিয়ে গেলে ইট বিছানো রাস্তা শেষ। তারপর শুধু পানি আর পানি আর জলজ উদ্ভিদ। বিধাতার সৃষ্টির সকল লাবণ্য যেন বিছিয়ে রেখেছে চাঁপাদার বিলে। মন উজাড় করে দেখতে মন চায় পানিতে ভাসমান সবুজের অভয়ারণ্য। দেখে চোখ ফেরানো যায় না।

