চট্রগ্রাম প্রতিনিধি
পাহাড়, লেক, ঝরনা, সুড়ঙ্গপথ সবই আছে। আছে গাছগাছালি ঘেরা চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে লেকের নীলাভ জলে কায়াকিং করার অপূর্ব সুযোগ। বোটে করে লতাপাতায় ঘেরা দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী সুড়ঙ্গপথের প্রকৃতির শোভা দেখার সুযোগ যা কোনো পর্যটকই হাতছাড়া করতে চাইবে না। আছে রাতে ক্যাম্পিং করে থাকার সুযোগ। আছে রোদ্দুর ওঠা অতুলনীয় সুন্দর একটি সকাল।
প্রকৃতির সাথে, পাখপাখালির কিচিরমিচির, লতাদের কানকথা, পাতাদের ঝুমঝুমির মাঝে কাটানোর সুযোগ। আছে এই বিস্তীর্ণ লেকের পাশে বসে রাতে গান-আড্ডা শেষে বারবিকিউ খাওয়ার অপারচুনিটি।
আছে সুউচ্চ পাহাড়ের কোলে বসে প্রকৃতির অপার মুগ্ধতা দেখার সুযোগ। আছে ঝরনার পানিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ। আছে বোটে করে গাছগাছালি ঘেরা ছোট ছোট দ্বীপ বিশিষ্ট বিস্তীর্ণ লেকের নীলাভ জলে পা ডুবিয়ে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ।
ভাবছেন এই সুন্দর স্পটটা কোথায় আর কিভাবে ঘুরতে আসবেন এই তো। আপনি দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো গাড়িতে করে চলে আসতে পারেন এখানে। সেজন্য আপনাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী এলাকায় নামতে হবে। নেমেই দেখবেন স্পটের নাম লেখা সাইনবোর্ড। তো সিএনজি নিয়ে স্পটের একদম গেট পর্যন্ত চলে যেতে পারেন অথবা আপনি যদি হাঁটতে পছন্দ করেন তাহলে দশ মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন স্পটের গেটে।
আপনাদেরকে তো স্পটটির নামই বললাম না এখনো! আচ্ছা বলেই দিই স্পটটি হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া লেক। যার অবস্থান মীরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘী বাজার সংলগ্ন এলাকায়।
মহামায়া লেক চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম কৃত্রিম হৃদ। মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে ১১ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে মহামায়া লেক গড়ে উঠেছে। লেকের টলটলে পানি আর পাহাড়ের মিতালী ছাড়াও এখানে পাহাড়ি গুহা, রাবার ড্যাম ও অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণা রয়েছে।

