নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জগতে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই ও ইলন মাস্কের এক্সএআই। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে একটি ওয়েব ডোমেইন। ওপেনএআই ‘ডটস’ (Dots) নামে নতুন এআই এজেন্ট উন্মোচনের পর আলোচনায় এসেছে ‘ডট ডট কম’ (dot.com) নামের ওয়েব ঠিকানা। বর্তমানে ডোমেইনটির মালিকানা ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের হাতে এবং সেখানে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীদের এক্সএআইয়ের ‘গ্রোক’ চ্যাটবট ডাউনলোডের পাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার ওপেনএআই ‘ডটস’ নামে নতুন এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্ট বাজারে আনে। পণ্যটির অবতার গোলাকার ও রঙিন হওয়ায় এটি নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ‘ডট ডট কম’ ডোমেইনটি এক্সএআইয়ের মালিকানায় থাকার বিষয়টি প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ওয়েব ডোমেইনের নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ‘ডট ডট কম’-এর মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। এরপর ডোমেইনটি এক্সএআইয়ের নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কেন এক্সএআই এই ডোমেইনটি কিনেছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এর পেছনে সাধারণ ব্যবসায়িক কারণও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘ডট’ শব্দটি কেউ ভুল করে ‘বট’ হিসেবে লিখে ওয়েবে অনুসন্ধান করতে পারেন। এমন সম্ভাব্য ভুল বানানের অনুসন্ধান নিজেদের সেবার দিকে টেনে নিতে ডোমেইনটি কেনা হয়ে থাকতে পারে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ধরনের জল্পনাও চলছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, ওপেনএআইয়ের নতুন পণ্য ও এর নাম সম্পর্কে আগেভাগেই ধারণা পেয়েছিল মাস্কের দল। সেই সুযোগে ডোমেইনটি কিনে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
বিষয়টি প্রথম নজরে আনেন ‘এক্স’-এর এক বেনামী ব্যবহারকারী ও এক্সএআই পর্যবেক্ষক। নিজেকে ‘স্পেসএক্সএআইয়ের প্রধান রসিকতা কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যবহারকারীর একটি পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই ডোমেইনটি কেনার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রযুক্তি অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
তবে ‘ডট ডট কম’ কেনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এটি নিছক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, নাকি ওপেনএআইয়ের নতুন পণ্যকে ঘিরে করা কোনো রসিকতা—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে ‘ডটস’ নামের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায় এমন ‘ডটস ডট কম’ ডোমেইনটিও বর্তমানে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে। তবে ওই প্রতিষ্ঠানটি অনেক আগেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে।
ডেইলি বাঙ্গালী //টি//

