সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর ভিড় জমেছে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু মৌসুমী পদক্ষেপ নিলে হবে না। একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা অব্যাহত ভাবে বাড়ছে] ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মশার উপদ্রুপ কমাতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে এডিস মশার প্রজননকাল দীর্ঘ হচ্ছে। তাই মশা মারার জন্য দীর্ঘস্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশেষ করে, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর ভূমিকা আরো বাড়াতে হবে। মশা বৃদ্ধি পাওয়ার পর, ফগিং বা ওষুধ ছিটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না।
পরিকল্পনা তৈরি করে নিয়মিত কীটতত্ত্বীয় জরিপ চালাতে হবে। জরিপ রিপোর্টের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুধু লার্ভা বা উড়ন্ত মশা মারার চেয়ে, প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর জোর দিতে হবে। বাড়ি, ঘর ও আশেপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে মৌসুমী কর্মসূচি থেকে বের করে একটি স্থায়ী ও ডাটা-ড্রাইভেন জাতীয় কর্মসূচিতে রূপান্তর করতে হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। তা্ই সরকারি প্রচারণার পাশাপাশি বেসরকারিভাবে গণমাধ্যমগুলোকেও কাজ করতে হবে। প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ আঙিনা ও ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে।
একইসঙ্গে হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়াতে হবে, পর্যাপ্ত ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া যায়। অপ্রত্যাশিত মৃত্যু এড়ানো যায়।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল ৪ অক্টোবর রোববার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১২০ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৫১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২২ জন, বরিশাল বিভাগে ২০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন ও সিলেট বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
//L//

