নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে মাসব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কর্মসূচি ‘পিংক অক্টোবর ২০২৬’-এর আওতায় ১ হাজার ৪৫২ জন নারীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। ১০৩ জন নারী চিকিৎসকের অংশগ্রহণে স্ক্রিনিং কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক সমাবেশ ও ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক পরিচালনা করা হয়। তবে পিংক অক্টোবরের কর্মসূচি এখানেই শেষ হচ্ছে না। শনাক্ত রোগীদের চিকিৎসা এবং নির্বাচিত রোগীদের বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নিয়ে সচেতনতা থেকে সরাসরি চিকিৎসাসেবায় এগোচ্ছে আয়োজকেরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ স্ক্রিনিং কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এই কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান সিএসসিআর এবং স্নাতকোত্তর সার্জিক্যাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পিজিএস একাডেমিয়ার সমন্বিত উদ্যোগে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে গত ১ অক্টোবর এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল।
কর্মসূচির আওতায় মাসব্যাপী প্রতি রোববার, মঙ্গলবার ও বুধবার সিএসসিআর হাসপাতালে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে ১০৩ জন নারী চিকিৎসক অংশ নিয়ে মোট ১ হাজার ৪৫২ জন রোগীকে সেবা দেন।
এবারের কর্মসূচিতে যুক্ত হয় ‘পিংক বাস মোবাইল ক্লিনিক’। প্রতি শনিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকের মাধ্যমে নারীদের কাছে স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা ও স্ক্রিনিং সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্ক্রিনিংয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। গত ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন শেডে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নেন ৪৬০ জন। এতে পুলিশ বাহিনীর নারী সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৪ অক্টোবর প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেন ৭৬ জন ছাত্রী ও শিক্ষিকা। আর গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নেন ২৬০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকা।
আয়োজকদের এবারের কর্মসূচির বিশেষ দিক হলো, স্ক্রিনিংয়ে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। ‘From Awareness to Care’ কর্মসূচির আওতায় শনাক্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ডের মাধ্যমে পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। নভেম্বর মাসের প্রতি সোমবার বিকেল চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত বিনা মূল্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পাশাপাশি বিশেষভাবে নির্বাচিত কয়েকজন রোগীর বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নভেম্বর মাসজুড়ে এ কার্যক্রম চলবে।
আগামী ১৫ নভেম্বরের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমে চট্টগ্রামের সার্জনদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য থেকে আসবেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত দুই সার্জন ডা. লরা জনসন ও ডা. মো. জাকের উল্লাহ। তাঁরা সকাল নয়টা থেকে সরাসরি অস্ত্রোপচারে অংশ নেবেন। সিএসসিআর হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষ থেকে চট্টগ্রামের একদল তরুণ সার্জন তাঁদের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার কথা রয়েছে। এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের সংগঠন প্ল্যানেটারি হেলথ একাডেমিয়া।
আয়োজকদের ভাষ্য, পিংক অক্টোবরের সচেতনতা কার্যক্রমের সমাপ্তি হলেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে। ‘Awareness to Care’ থেকে ‘Care to Excellence’ পর্যায়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শল্যচিকিৎসক ও পিজিএস একাডেমিয়ার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. খন্দকার এ কে আজাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মাসব্যাপী কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। এতে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাকেরা আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সায়রা বানু শিউলি ও সহকারী অধ্যাপক ডা. নাজমা মাহবুব।
//এফ//

