আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। রোববার (১ নভেম্বর) ভোট গণনার পর বিভিন্ন জরিপ সংস্থার প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাবে তিনি প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে গিউরভ পেয়েছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট।
প্রাথমিক ফলাফল চূড়ান্ত হলে বুলগেরিয়ার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হবেন ৬২ বছর বয়সি ইয়োতোভা।
পরাজয় মেনে নিয়ে গিউরভ বলেছেন, বুলগেরিয়ার নাগরিকেরা যেভাবে ভোট দিয়েছেন, সেটিই তাদের সিদ্ধান্ত। তাই এই ফলাফল মেনে নিতে হবে। সোমবারের আগে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের সম্ভাবনা নেই।
এ নির্বাচনে ইয়োতোভাকে সমর্থন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভের রাশিয়াপন্থি হিসেবে পরিচিত প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া পার্টি। দলটির জন্য এটি ছিল বড় একটি নির্বাচনী পরীক্ষা। গত এপ্রিলের সংসদ নির্বাচনে ২৪০ আসনের মধ্যে ১৩১টি পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দলটি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইয়োতোভা জয়ী হলে প্রেসিডেন্টের পদও ক্ষমতাসীন জোটের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা একটি পক্ষের হাতে বেশি কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্যপূর্ণ নজরদারি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
গত জানুয়ারিতে রাদেভ প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর দায়িত্ব নেন ইয়োতোভা। এবার সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের মেয়াদ নিশ্চিত করতে লড়ছেন তিনি।
ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বুলগেরিয়ার সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নীতিও অব্যাহত রাখবেন ইয়োতোভা। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষেও তার অবস্থান রয়েছে।
রোববার ভোট দেওয়ার পর ইয়োতোভা বলেন, তিনি এমন একটি বুলগেরিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যে দেশ নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং শক্তিশালী ইউরোপের মধ্যে নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতিসম্পন্ন একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দিয়েছি।’
বুলগেরিয়া ২০০৪ সালে ন্যাটো এবং ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়। দেশটির অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে দেশটির জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে রাশিয়ার প্রতি সমর্থন রয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এ নিয়ে বুলগেরিয়ার সমাজে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ইয়োতোভা ও রাদেভ—দুজনই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বলেছেন। তবে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তারা স্পষ্ট অবস্থান এড়িয়ে গেছেন।
নির্বাচনের আগে টেলিভিশন বিতর্কে গিউরভের সঙ্গে আলোচনায় ইয়োতোভা বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তার ভাষায়, ‘শান্তি আসতে পারে কেবল আলোচনার মাধ্যমে।’
এ ছাড়া কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী ছয়টি দেশকে নিয়ে একটি নিরাপত্তা বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। ওই বৈঠকে দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও বলেন।
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট সরাসরি সরকার পরিচালনা করেন না এবং বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তিনি সংসদে পাস হওয়া আইনে ভেটো দিতে পারেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেন।
বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
//L//

