দ্যুতিময় বুলবুল
মাধুরী দীক্ষিত শুধু অভিনয় দক্ষতার জন্যই বিখ্যাত নন। অভিনয়ের পাশাপাশি, নাচেও তিনি অতুলনীয়। অভিনয়, নাচ ও মাধুরী সমার্থক। তার নাচের শৈলী, এক্সপ্রেশন, ইনভল্বমেন্ট ও ফিনিশিং আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী! নাচের লড়াইয়ে তার ধারেকাছেও কোনো বলিউড অভিনেত্রী নেই!
মাধুরী দীক্ষিত অসাধারণ নাচ, অনন্য শারীরিক সৌন্দর্য ও অতুলনীয় অভিনয়ের জন্য বলিউডে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তার নৃত্যের কলা-কৌশল ও অভিনবত্ব শিশু থেকে বুড়ো, সবাইকে মুগ্ধ করে।
বলিউড তারকাদের মধ্যে একইসঙ্গে অভিনয়, নাচ ও সৌন্দর্যে সবার উপরে মাধুরী দীক্ষিত। দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ার তার। তাই তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম অ্যাসেট। মাধুরী যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি অভিনয় দক্ষ ও নৃত্যপটিয়সী। একই অঙ্গে অনেক রূপ তার! আর সে কারণেই নব্বাইয়ের দশক থেকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। আজও তার অভিনয়, নাচ এবং সৌন্দর্যে পাগল সিনেমা ভক্তরা।
মাধুরীর নাচের নিজস্ব অভিব্যক্তি, কলা-কৌশল, শারীরিক ভাষা, সৌন্দর্য এবং পদক্ষেপগুলোকে আরও আকর্ষণীয়, প্রাণবন্ত, স্বতস্ফূর্ত ও জীবন্ত করে তোলে। যে কোনো নাচ, মাধুরী খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটিয়ে তোলেন। নাচের সময় তার চোখ-মুখ কথা বলে। কথা বলে তার পুরো শরীর।
মাধুরী দীক্ষিত অন্য নৃত্যশিল্পীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, তার নাচে মাদকতা, উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা এতটাই বেশি থাকে যে, তা দ্রুত দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্যে সংক্রামিত হয়। মাধুরী যখন নাচ করেন. তখন তিনি তার সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করেন। নাচের সঙ্গে তার দেহ-মন-প্রাণ মিশে যায়। গানের কথা বা গতি যাই থাক না কেন, মাধুরী তার আবেগ ও অনুভূতির সঙ্গে খুব ভালোভাবে সমসত্ত্ব দ্রবণ তৈরি করেন।
ব্রেক ড্যান্স, ক্লাসিক্যাল ড্যান্স, বলিউড ফিল্মি ড্যান্স, যাই হোক না কেন-মাধুরী সবটাতেই সমান পারদর্শী। তার নিখুঁত পদক্ষেপ, অভিব্যক্তি, লাবণ্য, স্টাইল এবং এনার্জি অসাধারণ। মাধুরী একজন নিখুঁত নৃত্যশিল্পী।
মাধুরী নাচে এতটা পারদর্শী হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, নাচই তার প্রথম সাধনা। অভিনয়ে প্রবেশের আগেই, মাত্র তিন বছর বয়সে নাচ শুরু করেছিলেন তিনি। নয় বছর বয়সে ধ্রুপদি কত্থক নৃত্যে স্কলারশিপ পেয়েছেন। সেই শিশু বয়স থেকেই মঞ্চে নেচে মুগ্ধ করতেন দর্শকদের। অভিনয়ে প্রবেশের আগেই নৃত্যপটিয়সী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন মাধুরী। জয় করেন নানা পুরস্কার।
মাধুরী দীক্ষিত টানা আট বছর কত্থক নৃত্যে প্রশিক্ষণ নেন। ফলে তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ ও পেশাদার প্রশিক্ষিত কত্থক নৃত্যশিল্পী হয়ে ওঠেন। তাই তিনি ছবিতে অভিনয়ে প্রবেশের আগেই অসাধারণ জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পীর মর্যদা অর্জন করেন। ফলে ছবিতে অভিনয়ে সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে নাচেও তিনি অসাধারণ সাফল্য লাভ করেন।
স্বয়ং মাধুরী দীক্ষিত তার নাচের ব্যাপারে বলেছেন, “আমার বয়স যখন নয় বছর, তখন আমি কত্থক নৃত্যশিল্পী হিসেবে বৃত্তি পেয়েছিলাম। আমার মনে আছে, একটি নৃত্য পরিবেশনার জন্যই প্রথম আমার নাম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তখন আমার বয়স ছিল সাত-আট বছর এবং আমি গুরু পূর্ণিমা উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেছিলাম। আর সেখানে একজন সাংবাদিক ছিলেন-তিনি একটি প্রতিবেদনে লিখেছিলেন যে, ‘এই ছোট্ট মেয়েটি অনুষ্ঠানটি চুরি করেছে’ – এরকমই কিছু। আমি দারুণ আনন্দিত ছিলাম। তাই নৃত্য আমাকে কৃতিত্বের অনুভূতি দিয়েছে।”
মাধুরী দীক্ষিতের অনবদ্য নাচ সর্বস্তরের দর্শকমহলে বহুল আলোচিত ও ব্যাপক প্রশংসিত। নাচেও তিনি অসংখ্য পুরস্কার জয় করেছেন। আজও তিনি নাচ চর্চা করেন। প্রশিক্ষণ দেন। যোগ দেন নানা নাচের অনুষ্ঠানে। ‘ঝলক দিখলা জা’ এবং ‘ড্যান্স দিওয়ানে’ সহ নানা ড্যান্স রিয়েলিটি শো-এর বিচারক তিনি।
মাধুরী দীক্ষিত যে বলিউড নায়িকাদের মধ্যে ধ্রুপদ নাচে সবার সেরা, এই প্রশংসাপত্র দিয়েছিলেন প্রসিদ্ধ নৃত্যশিল্পী স্বয়ং বিরজু মহারাজ। মোহনীয় রূপ, নৃত্য শৈলী এবং মনোরম অভিব্যক্তির জন্য মাধুরী দীক্ষিতকে বলিউডের ‘নৃত্যরানি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
লেখক: সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক
//L//

