ডেস্ক নিউজ:
কলেজ জীবন মানেই সাধারণত ডিগ্রি অর্জন, বন্ধুদের আড্ডা আর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দোটানায় থাকার সময়। তবে সেই বয়সেই পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে ব্যতিক্রমী সাফল্য অর্জন করে দেখিয়েছেন ২১ বছর বয়সী কলেজছাত্রী অনন্যা আগরওয়াল।
ব্যাচেলর অব ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ (বিএমএস) কোর্সের শেষ বর্ষে পড়ার পাশাপাশি ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামে নিজের ক্যাফে খুলে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। অনন্যার প্রতিষ্ঠিত ‘লুম অ্যান্ড লাইম’ নামের ক্যাফেটি যাত্রা শুরুর মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে ১৫ লাখ রুপি আয় করে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
রেস্তোরাঁটির নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, একটি উষ্ণ, মনোরম, শান্ত পরিবেশ এবং সুস্বাদু খাবারের কম্বিনেশনে মানসম্মত একটি স্থান তৈরি করাই ছিল এই ক্যাফেটি খোলার মূল উদ্দেশ্য। তবে চূড়ান্ত বর্ষের পড়াশোনা সামলে একই সঙ্গে রেস্তোরাঁটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অনন্যার জন্য একেবারেই সহজ ছিল না।
ফুড ও ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম ‘কার্লি টেলস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনন্যা জানান, কীভাবে তিনি নিজের প্রতিদিনের সময়কে কলেজ এবং ক্যাফের মধ্যে ভাগ করে নেন। তাকে একদিকে ক্লাসের গ্রেড ভালো রাখা, সময়ের মধ্যে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া নিশ্চিত করতে হয়, আবার অন্যদিকে ক্যাফের সমস্ত কার্যক্রম যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয় সেদিকেও সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হয়।
তিনি বলেন, কাজের মধ্য দিয়েই তিনি প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছেন এবং এই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা তার কাছে অনেক বড় অর্থ বহন করে।
ভারতে ক্যাফে সংস্কৃতির বাজারে ‘লুম অ্যান্ড লাইম’-এর আলাদা বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরে অনন্যা জানান, ভারতে সাধারণত ইতালিয়ান, মেক্সিকান কিংবা মেডিটেরেনিয়ান খাবারে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় মসলা যোগ করে ‘ইন্ডিয়ানাইজড’ রূপ দেওয়া হয়। এর ফলে সেসব বিদেশি খাবারের আসল ও খাঁটি স্বাদ পুরোপুরি হারিয়ে যায়। অনন্যা চেয়েছিলেন এমন একটি জায়গা তৈরি করতে, যেখানে বিদেশি রন্ধনশৈলীর এই খাঁটি বা আসল স্বাদটি বজায় থাকবে।
সম্পূর্ণ নিরামিষ এই বিস্ট্রোটিতে ইতালিয়ান, মেক্সিকান এবং মেডিটেরেনিয়ান ঘরানার খাবারের পাশাপাশি হরেক রকমের স্পেশাল কফি, পানীয় এবং ডেজার্ট পরিবেশন করা হয়। স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য ক্যাফেটিতে ভেগান খাবারের বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মেনুতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ব্রিক-ওভেন পিৎজা, টাকোস, মেজে প্ল্যাটাস, হাতে তৈরি তাজা পাস্তা, বিভিন্ন স্বাদের বিশেষ ব্রেড এবং বৈচিত্র্যময় ফ্রাইস। ভোজনরসিকদের সুবিধার্থে গুরুগ্রামের এই ক্যাফেটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
সূত্র: এনডিটিভি

