সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধ ও পতিত জমিতে পানিসিঙাড়া বা পানিফল চাষ করে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের। কম খরচে ও অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে এই ফলের আবাদ।
চলতি মৌসুমে জেলার ২৮৫ হেক্টর জমিতে পানিফল উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদিত ফল এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে হচ্ছে সারা দেশে সরবরাহ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় গত বছর পানিফল চাষ হয়েছিল ১৬৪ হেক্টর জমিতে। আর চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৫ হেক্টরে। উৎপাদিত পানিফল এখন জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায়ও যাচ্ছে।
স্থানীয় চাষিরা জানান, জল-কাদাময় জমিতে এখন কেবলই পানিফলের রাজত্ব। জেলার মানুষের কাছে এটি ‘পানিসিঙাড়া’ নামে পরিচিত। নিচু ও দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকা পতিত জমিতে বিষমুক্ত এই ফল চাষ দেখাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন পথ। সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর পানিফল ডায়াবেটিসসহ নানা রোগের উপশমে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পানিফল চাষি শাহবুদ্দিন ও ইয়াকুব্বর আলী জানান, সাতক্ষীরায় বর্তমানে পানিফলের খুচরা দাম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ভরা মৌসুমে বা স্থানভেদে তা কমে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে পাইকারি বাজারে এর দাম আরও কম, প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা।
তারা আরো জানান, উৎপাদিত এই পানিফল স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর ট্রাকে করে ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। চাষিদের ভাষ্য, সঠিক সময়ে সার ও চারা সরবরাহ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা পেলে আবাদ আরও বাড়ানো সম্ভব। বিঘাপ্রতি খরচ কম হওয়ায় অন্য ফসলের তুলনায় এতে লাভ মিলছে দ্বিগুণ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার জানান, অনাবাদি জলাবদ্ধ জমিগুলোকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গত বছর জেলায় পানিফল চাষ হয়েছিল ১৬৪ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৫ হেক্টরে।
//L//

