আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ২০২২ সালে অভিবাসী পাচারের ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এক গুয়াতেমালার নাগরিককে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ রায় দেওয়া হয়। ৩৯ বছর বয়সী রিগোবার্তো রোমান মিরান্ডা-ওরোজকোকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পাচারের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি একটি। মিরান্ডা-ওরোজকো স্বীকার করেছেন, এই ঘটনায় মারা যাওয়া দুজন এবং গুরুতর আহত একজনের যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।
২০২২ সালের জুনে মেক্সিকো সীমান্তের শহর লারেডো থেকে টেক্সাসের সান আন্তোনিও যাওয়ার পথে একটি পণ্যবাহী ট্রাকের আবদ্ধ পেছনের অংশে অভিবাসীদের নেওয়া হচ্ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই যাত্রায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ট্রাকটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। ফলে ভেতরে থাকা মানুষজন ঠান্ডা বাতাস পাননি।
পরে সান আন্তোনিওর একটি নির্জন সড়কের পাশে পরিত্যক্ত ট্রাকটি পাওয়া যায়। সেটির ভেতর থেকে ৪৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও ১৬ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা যান। সব মিলিয়ে প্রাণ হারান ৫৩ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি আইনজীবীরা জানান, ট্রাকের ভেতরে আটকে পড়া অভিবাসীরা গরম থেকে বাঁচতে নিজেদের পোশাক খুলে ফেলেছিলেন। ট্রাকের দেয়ালে পাওয়া যায় বাইরে বের হওয়ার জন্য আঁচড় কাটার চিহ্নও। যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী জাস্টিন সিমন্স বলেন, জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টায় তাদের ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন গুয়াতেমালার নাগরিক।
মিরান্ডা-ওরোজকোকে ২০২৪ সালে গুয়াতেমালায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি অভিবাসী পাচারের ষড়যন্ত্র, পাচারের ঘটনায় মৃত্যুর জন্য সহায়তা এবং গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সহায়তা করার অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক অরল্যান্ডো গার্সিয়া তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালার আইনজীবীরা বলেছেন, এই রায় ভয়াবহ ওই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালায় প্রায় ২০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে পাচারকারী চক্রের নেতা হিসেবে পরিচিত ফেলিপে ওরদুনা-তোরেসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার প্রধান সহযোগী আরমান্দো গনজালেস-ওর্তেগার ৮৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। ট্রাকটির চালকসহ আরও কয়েকজনের সাজা ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে।
মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টায় গত কয়েক দশকে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৭ সালে সান আন্তোনিওর একটি বিপণিবিতানের পাশে রাখা ট্রাকে আটকে পড়ে ১০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়। ২০০৩ সালেও সান আন্তোনিওর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রচণ্ড গরমে একটি ট্রাকের ভেতর থেকে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সূত্র: সিএনএন
//L//

