ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কীর্তি সুরেশ। দেড় দশক প্রেম করার পর অ্যান্টোনি থাটির সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী। প্রেম থেকে পরিণয়—সমীকরণটা সহজ মনে হলেও বাস্তবতা তা ছিল না। কারণ কীর্তির ব্যক্তিগত ডায়েরি চলে যায় তার মা মেনকার হাতে। এরপর তৈরি হয় নতুন পরিস্থিতি। তার মধ্যে দুজন দুই ধর্মের হওয়ায় বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করে।
প্রেম-বিয়ে ও সংগ্রামের গল্প নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কীর্তি সুরেশ। কার্লি টলসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কীর্তি সুরেশ বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে অনেক আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সময়টা সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবে দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করার পরপরই সম্পর্কের শুরু।”
কীর্তি সুরেশের মা মেনকা তার ব্যক্তিগত ডায়েরি পড়ে সম্পর্কের তথ্য জেনে যান। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “কলেজে পড়ার সময়ে মা আমার ডায়েরি পড়েছিলেন। সেখানে আমাদের সম্পর্কের সব কথাই লেখা ছিল। মা বলেছিলেন—‘আমি তোমার মা, তোমার ডায়েরি পড়ার অধিকার আমার আছে।’ সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, এরপর আর কখনো ডায়েরি লিখিনি। অথচ লিখতে আমার খুব ভালো লাগত। ডায়েরিটা এখন কোথায় আছে, তা জানি না। খুব ইচ্ছে করে, ডায়েরিটা যদি ফিরে পেতাম! আমার ধারণা, মা হয়তো ডায়েরিটা পুড়িয়ে ফেলেছেন।”
মাত্র ১৭ বছর বয়সে অ্যান্টোনির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান কীর্তি। তা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার বয়স যখন ১৭, তখন আমাদের প্রেম শুরু। অ্যান্টোনি আমার চেয়ে ৭ বছরের বড়।”
দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক গোপন রাখা কতটা কঠিন ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে কীর্তি সুরেশ বলেন, “বিষয়টি মোটেও কঠিন ছিল না। বরং খুব সহজ ছিল। প্রথমত, আমরা কখনো দুজন একসঙ্গে ছুটি কাটাতে যেতাম না। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেই আমাদের ভালো লাগত। তাই সব সময় দল বেঁধে ঘুরতে যেতাম। এমনকি, একসঙ্গে ছবি পোস্ট করলেও কেউ বুঝতে পারত না, এই মানুষটিই আমার প্রেমিক। এভাবেই বিষয়টি সহজ ছিল।”
তবে বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর অ্যান্টোনি কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে পাপারাজ্জিদের নিয়ে তার দুশ্চিন্তা ছিল বলে জানান কীর্তি সুরেশ। এ অভিনেত্রীর ভাষায়—“বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর অ্যান্টোনি খুব চাপের মধ্যে ছিল। সব সময় জিজ্ঞেস করত, ‘এখানে কি পাপারাজ্জিরা আছে?”
কয়েকজন মিউচুয়াল বন্ধুর মাধ্যমে অ্যান্টোনির সঙ্গে পরিচয় হয় কীর্তি সুরেশের। স্মৃতিচারণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “২০০৯ সালের ডিসেম্বরে আমাদের পরিচয় হয়। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে আমরা প্রেমের সম্পর্কে জড়াই। ২০২৪ সালে বিয়ে করি।”
দুজন দুই ধর্মের অনুসারী হওয়ায় বিয়ে নিয়ে সংকটে পড়েন কীর্তি-অ্যান্টোনি। পরিস্থিতি বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, “অ্যান্টোনি খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী হওয়ায় পারিবারিক কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পরিবারকে রাজি করাতে আমাকে বেশ সময় নিতে হয়েছে। অভিনেত্রী হওয়ার আগেই অ্যান্টোনি আমাকে চিনত। এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়। আমরা বলতে গেলে একসঙ্গেই বড় হয়েছি।”
দুই যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন কীর্তি সুরেশ। দক্ষিণী সিনেমার অধিকাংশ তারকা অভিনেতার সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী
দুই যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন কীর্তি সুরেশ। দক্ষিণী সিনেমার অধিকাংশ তারকা অভিনেতার সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী
পালিয়ে বিয়ের দুঃস্বপ্নও দেখেছিলেন কীর্তি
দীর্ঘ ১৫ বছর প্রেম করার পর ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কীর্তি সুরেশ ও অ্যান্টোনি। ভারতের গোয়ায় ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তামিল ব্রাহ্মণ ও মালায়ালি খ্রিষ্টান—দুই ঐতিহ্য মেনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা। ২০২৫ সালে গালাটা ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিয়ের অনুভূতি প্রকাশ করেন। কীর্তি সুরেশ বলেন, “সত্যিই এটা স্বপ্নের মতো। যদিও একে স্বপ্ন বলতেও পারছি না। কারণ পালিয়ে বিয়ে করার দুঃস্বপ্নও আমাদের দেখতে হয়েছে! তাই এটাকে স্বপ্ন বলব কি না, জানি না। তবে সেদিন আমার মন ভরে গিয়েছিল। মুহূর্তটি আমাদের দুজনের জন্যই ভীষণ আবেগের ছিল। কারণ আমরা সব সময় এমন একটি দিনের অপেক্ষায় ছিলাম।”
কীর্তির স্বামী অ্যান্টোনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বিয়ের পর পুরোদমে অভিনয়ে সরব ‘মহানতি’খ্যাত এই অভিনেত্রী
কীর্তি সুরেশের স্বামী অ্যান্টোনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বিয়ের পরও পুরোদমে অভিনয়ে সরব ‘মহানতি’খ্যাত এই অভিনেত্রী
কীর্তির অভিনয় ক্যারিয়ার
২০০০ সালে মালায়ালাম ভাষার ‘পাইলট’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম অভিনয় করেন কীর্তি সুরেশ। এরপর আরো বেশ কটি সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিয়ালে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। ২০১৩ সালে মালায়ালাম ভাষার ‘গীতাঞ্জলি’ সিনেমায় প্রথম কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেন কীর্তি। এ পর্যন্ত তার অভিনীত ৪২টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। ২০১৯ সালে তেলেগু ভাষার ‘মহানতি’ সিনেমার জন্য ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। বর্তমানে বিভিন্ন ভাষার মোট ৬টি সিনেমার কাজ তার হাতে রয়েছে।
//এফ//

