ভারতের আসাম রাজ্যে বনাঞ্চলীয় জমি থেকে দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম। এ সময় অন্তত ১০টি মসজিদও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নগাঁও জেলার লুতুমারী লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ৫০০ থেকে ৬০০টি পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগের দিন নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় পৃথক অভিযানে আরও ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার রয়েছে।
‘তাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার অধীনে বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করা তাদের পূর্বপুরুষদের ১৯৭৪ সালে ওই জমিতে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। তবে উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে গুয়াহাটি হাইকোর্টে আবেদন করা হলেও আদালত সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার স্বার্থে ৩০ দিনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেন বলে তিনি জানান।
আসাম সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি ও বনাঞ্চলীয় জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, উচ্ছেদের ফলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, আসামে বিজেপি সরকারের এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষা ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার যুক্তি তুলে ধরছে রাজ্য সরকার। তবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর বসবাসের ইতিহাস, পুনর্বাসন এবং ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর
//এফ//

