আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে উচ্চবিদ্যালয়ের ক্লাস স্থগিত করেছে সরকার। শিক্ষা খাতে অর্থায়ন বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো, শিক্ষক সংকট দূর করা এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।
বিক্ষোভের সবচেয়ে বড় কর্মসূচিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নামে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সারা দেশে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশটির অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে স্কুল অবরোধ ও ক্লাস বর্জন করে আসছে।
মঙ্গলবার প্যারিস, স্ট্রাসবুর্গ, লিয়ঁ, রেন ও তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১৫ শিক্ষার্থী ও ৮৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭০০-র বেশি পুলিশ সদস্যও। এ পরিস্থিতিকে কয়েক দশকের মধ্যে শিক্ষা খাতে সবচেয়ে গুরুতর সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
এর আগে সোমবার উত্তর ফ্রান্সের লঁস শহরে পুলিশের ব্যবহৃত একটি বিস্ফোরক সরঞ্জামের ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে একটি হাত হারায়। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং কর্তৃপক্ষ একাধিক তদন্ত শুরু করেছে।
ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ৮৯১টি স্কুলে বিক্ষোভ বা অবরোধের প্রভাব পড়ে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক-চতুর্থাংশে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সরকার কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা, দীর্ঘ স্কুল সময়সূচি পর্যালোচনা, মধ্যাহ্ন বিরতি বাড়ানো এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু।
//L//

