বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল ভাই-বোনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ।
শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার আগমন অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভশক্তির বিকাশ এবং মানবকল্যাণের বার্তা বহন করে। অন্যায়, অসত্য ও অকল্যাণের বিরুদ্ধে ন্যায়, সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠাই দুর্গোৎসবের অন্যতম তাৎপর্য।
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বহুত্ববাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য ঐতিহ্যের দেশ। এ দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব স্বাধীনভাবে পালন করবেন—এটাই আমাদের সাংবিধানিক অধিকার, সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সৌন্দর্য। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
চট্টগ্রাম একটি ঐতিহ্যবাহী বন্দরনগরী, যেখানে যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছেন। এই সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং নগরীর প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নগরীর সর্বত্র আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও মানবিক নগরী গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে আমরা একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন নগরী প্রতিষ্ঠা করতে পারব। দুর্গাপূজা উদ্যাপনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উৎসব পালনের আহ্বান জানাই।
ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আসুন, আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি। শারদীয় দুর্গোৎসব সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ। অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, শুভশক্তির জয় হোক এবং সম্প্রীতির বন্ধনে গড়ে উঠুক একটি সুন্দর বাংলাদেশ।
//এফ//

